আইসল্যান্ডে আটকে গেল আর্জেন্টিনা,কোটি ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

ক্রীড়া ডেস্ক : ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপ খেলা আর্জেন্টিনা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ও তিনবারের রানার্স-আপ। তাদের দলে রয়েছে লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো, মাসচেরানো, ডি মারিয়াদের মতো তারকা ফুটবলাররা। আর্জেন্টিনার তুলনায় আইসল্যান্ড নস্যি। এবারই প্রথম ৩ লাখ ৩৫ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে। সেই তারাই কিনা রুখে দিল লিওনেল মেসি-আগুয়েরোদের! আর্জেন্টিনার পয়েন্টে ভাগ বসালো তারা! আর্জেন্টিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে শুভসূচনা করেছে আইসল্যান্ড। অন্যদিকে ড্র করে বাংলাদেশের অগণিত সমর্থকদের হতাশ করেছে আর্জেন্টিনা। পরের রাউন্ডে যেতে হলে নাইজেরিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

শনিবার আইসল্যান্ডের বিপক্ষে গোল পেতে বেশি সময় নেয়নি আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সার্জিও আগুয়েরো গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এ সময় মার্কোস রোহোর মিস করা শট চলে আসে আগুয়েরোর কাছে। বল পেয়েই বাম পায়ে শট নেন আগুয়েরো। বামপাশ দিয়ে বল জালে আশ্রয় নেয়। তবে বেশিক্ষণ তাদের এগিয়ে থাকতে দেয়নি আইসল্যান্ড। ম্যাচের ২৩ মিনিটেই সমতা ফেরায় উয়েফাভূক্ত দলটি। এ সময় জটলার মধ্যে বল পেয়ে শট নেন আলফ্রেড ফিনবগাসন। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বল তার গন্তব্যে পৌছে যায়। তাতে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথার্ধের লড়াই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি শট নেন লিওনেল মেসি। তার নেওয়া শট বামদিকে ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন আইসল্যান্ডের গোলরক্ষক হালডরসন। এরপর ডি বক্সের সামনে আরো দুটি ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। তার একটি গোলপোস্টের উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অপরটি আইসল্যান্ডের তৈরি করা মানবদেয়ালে লেগে ফিরে আসে। এরপরই রেফারি লম্বা বাঁশি বাজিয়ে জানিয়ে দেন খেলা শেষ।

পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গেছে। আর আইসল্যান্ড রক্ষণাত্মক খেলা খেলে গেছে। ম্যাচের ৭৩ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার কাছে। ২৭ শতাংশ ছিল আইসল্যান্ডের। গোলপোস্টে আশেপাশে আর্জেন্টিনা ১৯বার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তার মধ্যে ১২টি ছিল গোলমুখে। অন্যদিকে আইসল্যান্ড ৮বার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তার ৪টি ছিল গোলমুখে। আর্জেন্টিনা কর্নার পেয়েছিল ১০টি। আর আইসল্যান্ড পেয়েছিল ২টি। তারপরও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর একটি গোল করতে পারেনি মেসি-মাসচেরানোরা।