জেএমবি‘র দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

 

প্রেস বিজপ্তি: জেএমবি’র সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। তারা হচ্ছে মো. আনোয়ার আজিজ (৩৯) এবং মো. আফছার আজিজ ওরফে অভি (৩৪)। বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর উত্তরার রাজলক্ষ্মী মার্কেট থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

আটককৃত দুই জেএমবি সদস্য মাগুরা জেলার মো. দিদারুল আলমের ছেলে এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। তাঁদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ ও বন্দর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।

ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য মোঃ.মাসুদ আলমের মাধ্যমে ২০১২ সালে উগ্রবাদীতার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে জেএমবির সাথে তাঁরা দুই ভাই সম্পৃক্ত হয়। শুরুতে সালাফি মতাদর্শে দীক্ষিত হয়। পরে জসিমউদ্দিন রাহমানীসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী আলেমদের সংস্পর্শে আসে। ২০১৩ সালে গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য মাসুদ তাকে অপর গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য আবু ইউশা ওরফে ইমন এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আবু ইউশার মাধ্যমে সে জেএমবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়াতের মাধ্যমে যোগদান করে। এরপর থেকে সে জেএমবির দাওয়াতী কাজের সাথে জড়িত হয়। তার মাধ্যমে ১০/১২ জন জেএমবি সদস্য সংগঠনে যোগদান করে। সে তার ভাই মোঃ আফছার আজিজ অভিকে জেএমবির দাওয়াত দিলে অভি জেএমবির দাওয়াত গ্রহণ করে এবং তার বাসায় আবু ইউশা ইমন জেএমবির বায়াত দেয়। এরপর থেকে দুই ভাই একত্রে সক্রিয়ভাবে জেএমবির দাওয়াতী কাজ শুরু করে।

দাওয়াতী কাজের পাশাপাশি ইমনের নির্দেশে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহন করার জন্য নিজেরা রাজধানীর বিভিন্ন জিমনেশিয়ামে ব্যায়াম করা শুরু করে। ২০১৫ সালে অনু-অভির নিজ বাসায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র একে-৪৭ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়। ইমন তাদেরকে এই অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়। ২০১৫ সালের শেষ দিকে আবু্ ইউশা ইমন অপর জেএমবি সদস্য মোঃ আনোয়ারের মেয়েকে বিয়ে করে। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনু-অভির বাসায় সম্পন্ন হয়।

ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহানসহ শুরা সদস্য তাসলিম, রিপনসহ আরোও অনেকে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে সংগঠনে অনু-অভির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ও আলোচনা অনু-অভির বাসায় সম্পন্ন হত। অনু-অভি ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় সদস্য আবু ইউশা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইমন, আনোয়ার হোসেন, সাইফুল গনি চৌধুরী, ইমরান আহমেদ, মো. নবীন হোসেন রাববী, মো. ওয়ালীউল্লাহ চিশতি ওরফে জনি মোহাম্মদ, আল-আমীন ওরফে রাজিব ও মো. মাসুদ আলম এর সাথে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে যাতায়াত করেছে এবং দাওয়াতী কাজ পরিচালনা ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে বলেও স্বীকার করে।

অনু-অভির বাবা-মা জেএমবি থেকে ফেরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। অনু বর্তমানে উত্তরা এলাকার জেএমবির দাওয়াতী শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।