শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

 

আজকের নারায়নগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর এই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯১তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

দুই বছর আগে ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরুর আগে ঈদগাহের বাইরে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে এবছরও গ্রহণ করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওই হামলায় দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো এলাকা। র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও জেলা পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল।

শোলাকিয়া ঈদগাহের এ ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাতে শরিক হওয়ার জন্য ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহে আসতে থাকেন। দূরের মুসল্লিরা আগের দিন ঈদগাহের মিম্বর ও আশপাশে এসে অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় ভরে যায়। ঈদগাহে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি পাশের সড়ক ও খালি জায়গায় নামাজ আদায় করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে নামাজ পড়ার সুবিধার্থে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। জামাত শুরুর আগে একটি ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে এবং অপরটি ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জে আসে। জামাত শেষে ট্রেন দুটি আবার ফিরে যায়।

শোলাকিয়া ঈদজামাতের নিরাপত্তায় নেওয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রায় সাড়ে ১১শ পুলিশ সদস্য ছাড়াও দুই প্লাটুন র‌্যাব ও পাঁচ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোন। নিবিড়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ঈদগাহে ড্রোন উড়ানো হয়েছে। এবারের জামাতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম.এ. আফজলসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।