ঈদ জামাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির বারতা

আজকের নারায়নগঞ্জঃ দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদ জামাতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ কামনা করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত শেষে লাখো মুসল্লিকে সঙ্গে নিয়ে কান্নাকাটি করে একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া-মোনাজাত করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, হে আল্লাহ, তুমি দেশ ও জাতিকে সুখ শান্তি দান করো। আমাদের সবাইকে শান্তিতে রাখো। কহর গজব ও বালা মুসিবত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করো, নিরাপত্তা দান করো। আমাদের দেশকে ভাল রাখো, সবাই মিলে মিশে শান্তিতে থাকার তওফিক দাও।আমাদের উত্তম রিজিক দান করো। আমাদের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ূ দান করো।

‘‘বিশেষ করে আজকে আমাদের সঙ্গে ঈদের জামাত আদায় করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন দান করো। ইয়া মওলা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সুস্বাস্থ্য ও হায়াতে তৈয়্যবা দান করো। আল্লাহ, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিকসহ আমাদের সবাইকে সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ূ দান করো। আমাদের সুখে শান্তিতে বসবাস করার তওফিক দাও- মহান রবের কাছে ফরিয়াদ করেন মুফতি মিজান।

হে আল্লাহ, আমরা তোমার সন্তুষ্টির জন্য একমাস রোজা রেখেছি, এই একমাসে ইফতার করেছি, তারাবি পড়েছি তোমার কোরআন পড়েছি, তেলাওয়াত শূনেছি, মেহেরবানি করে রমজান মাসের সব আমল কবুল করে নাও। রমজানের পরও বাকী জীবন যাতে এভাবেই এবাদত বন্দেগীতে জীবন যাপন করতে পারি সেই তওফিক দান করো।

হে আল্লাহ, তোমার শাহি দরবারে হাত উঠায়েছি, তুমি আমাদের রহম করে, দয়া করে আমাদের জিন্দেগীর সব গুনাহ মাফ করে দাও। আমাদের মা বাবা, ভাই বন্ধু, আত্মীয় স্বজন, দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে মাফ করে দাও। যারা কবরবাসী হয়েছেন তাদেরকেও মাফ করো। তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করো। বিশেষ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদদের এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারিদের জান্নাতবাসী করুন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রবের কাছে ফরিয়াদ করে ইমাম বলেন, হে আল্লাহ, আজ তুমি যাদের জন্য ঈদ ঘোষণা করেছ, ক্ষমা ও পুরস্কার ঘোষণা করেছ, তাদের মাঝে আমাদের শামিল করে নাও। ঠিকমত রমজান পালন করতে পারি নাই- মওলা, তুমি সীমাহিন দয়ার মালিক, তুমি এসব নেক বান্দাহদের উসিলায় আমাদের কবুল করে নাও, আমাদের ক্ষমা করো।ব্যবসা বাণিজ্যে, আয়-রোজগারে বরকত দান করো। ইহকাল ও পরকালে মুক্তি দান করো।

এসময় উপস্থিত লাখো মুসল্লি কণ্ঠে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে আমিন আমিন বলতে থাকেন। এসময় মহান আল্লাহর কাছে বান্দাহর আত্মসমর্পনের এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মোনাজাতের পরপরই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ মেয়র সাঈদ হোসেন খোকন, মন্ত্রী, এমপিসহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদ মোবারক বলে বুকে টেনে নেন একে অপরকে। ধনী গরিব ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সবাই একে অপরকে আপন করে নিলেন। মেতে উঠেন ঈদুল ফিতরের আনন্দ উৎসবে।

লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সকাল ঠিক সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজ পড়ান ‍বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান। এতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, মন্ত্রী-এমপি, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র, কূটনীতিক, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীসহ লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। ঈদ জামাতে শরিক হন দূর দুরান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক নারি, শিশু ও কিশোর।

ঈদের জামাত উপলক্ষ্যে আগ থেকেই জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতীয়্ ঈদগাহের প্রত্যেকটি প্রবেশমুখে আর্চার গেট (চেকপোস্ট) বসিয়ে তল্লাশির মাধ্যমে মাঠে প্রবেশ করানো হয়। লাইন ধরে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা ঈদ জামাতে শরিক হন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসক্লাবসহ কয়েকটি স্থানে একপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৮টা ২৪ মিনিটে ঈদগাহে আসেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট উপস্থিত হন। সাড়ে ৮টার আগেই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় ঈদের জামাত।