কবি গোলাম কবিরের ৩টি কবিতা

 

১। শিরোনামহীন -৮০

জীবন নদীর বাঁকে বাঁকে
অতৃপ্তি চুমুকে চুমুকে
স্মরণ নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে।
তবুও বেঁচে থাকা ব্যর্থতা ভুলে
ওপারে তোমায় পাবো বলে
ভাসাই তরী জীবন নদীতে।
তীব্র প্রতিকুল স্রোতের বিপরীতে
হাল ধরে যেতে হবে একলা,
বহু দুরের পথে
পারের কড়ি সঙ্গে নিয়ে।

২। শিরোনামহীন – ২৭

আমার মন পড়ে রয় দুর মদিনায়
যেখানে শুয়ে আছেন আমার প্রিয়তম নবী,
উচাটন মন আমার খুঁজে ফিরে তোমাকে সর্বদাই
এই বুঝি এলে তুমি স্বপ্নে, প্রতিটি রাত অপেক্ষা করি
তোমায় দেখবো বলে, দাও না তুমি দেখা,
ঘুম আমার বৃথাই গেল তোমার আশে,
কবে হবে দেখা প্রিয়তম নবী আমার?
জানিনা আরো কত অপেক্ষায় থাকতে হবে?
কবে তোমার রওজার সামনে দাঁড়িয়ে
অশ্রুসিক্ত নয়নে আবেগ মোথিত কণ্ঠে
তোমাকে জানাবো আমার সালাম,
বলবো মনে মনে মনের যত ব্যথা,
কবে হবে সময়, কবে যাবো মদিনা?
আর তো ভালো লাগে না কিছু,
আয় আল্লাহ! নাও না আমায় মদিনায়,
যার বিরহে আমি চোখের জলে ভাসি
তার কাছে যাবো, নিয়ে চলো আমায়
সময় যে আর কাটে না, দুঃখের রজনী
হয় না শেষ, যাবো আমি মদিনা,
যেখানে শুয়ে আছেন আমার প্রিয়তম রাসূল।

৩। অন্তিম ইচ্ছে

যদি কোন দিন হারিয়ে যাই তোমাদের সভায়
কেউ কি মনে রাখবে আমায়?
নাই বা রাখলে মনে ক্ষতি নাই কারো,
শুধু কয়েকটি বকুল অথবা বেলি ফুলের পাপড়ি
রেখে দিও আমার সমাধি পাশে
আর একটু চোখের জল ফেলে দু’হাত তুলে বলো, আমি তাঁকে ভালবাসি তুমিও জানো তা। ক্ষমা করে দিও আমার সকল ভুল গুলো
যা আমি তোমাদের সাথে করেছিলাম,
তাঁকে ও বলো ক্ষমা করে দিতে, বন্ধু আমার।