সমর্পণ

– গাজী নাজমুল আলম
———-
জীবন বিগ্রহে রণাঙ্গনে আমার অদম্য একাল!
তোল দু’হাত, মুঠো ভরে নাও আমার সকল দিনরাত!
নাও আমার অতীত, আমার আগামী।
প্রখর রোদে পাড়ার গলিতে অলস ঘোরাফেরা,
বিকেল বেলায় চা এর কাপে উঠা টুংটাং শব্দ,
ফেনিল বুদবুদ জুড়ে ধোঁয়ার আলপনা।
সোনাঝরা সন্ধ্যার অবকাশ,
রাতের মাঠে সবুজ ঘাসে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা
আমার কুয়াশা প্রহর।
মুঠো ভরে নাও আমার শৈশব, কৈশোর,
আমার শোধিত যৌবনের রচনাবলি!
আমার বুক সেল্ফে থাকা রবীন্দ্রনাথ নাও,
নাও নজরুল, জীবনানন্দ।
নাও অসমাপ্ত কবিতার পান্ডুলিপি।
তুলে রাখো পরম যত্নের হাত দিয়ে
তোমার অন্দরমহলে।
মুঠো ভরে দিতে চাই প্রিয়তমার এক হাজারটা প্রেমপত্র।
দিতে চাই মান অভিমানে গড়া অসংখ্য অভিযোগনামা।
বহুকাল ধরে বহু আদরে লালন করা
আমার সকল সম্বল, সকল আমানত!
ধুলো ময়লায় ধূসর হয়নি হাজার বছরের ইতিহাস –
আমার পূর্বপুরুষদের যত্নের রোজনামচা!
আমার যা ভান্ডার, তোমার হাতেই সবের আশ্রয়,
আমারও ছিলো বিমুক্ত আশ্রালয়।
আমার হাজার বছরের জোছনার রঙ,
অমাবস্যার ঘুটঘুটে তমসা,
রেখে যেতে চাই তোমার চোখের তারায়।
হাত তোলো, মুঠো ভরে নিয়ে রাখো
আমার অপূর্ণ সব ইচ্ছেগুলো –
তোমার হাতেই সব পূর্ণতা পাক কালের অমোঘ চক্রে।

আমার দিঘীর জল, বৃষ্টিতে অবগাহন, ডুবসাঁতার,
তাল পাতার ফাঁক গলা উঁকি দেয়া বাঁকা চাঁদ,
নিয়ে রাখো তোমার হাতের পরে, অচিরকালে।
আমার নদী জল, সমুদ্র, কাশবন,
আমার আকাশের বিশাল বপু রাখো তোমার শামিয়ানায়।
আমার চোখে দীপ্তি রাখো,
হাতে হাত রাখো,
হৃদয়ে হৃদয় রেখে গানের রাগটা ধরো।
অন্তত গানের একটা অন্তরা শেষ করো।

বৃক্ষের প্রশান্ত ছায়ায় আমার অবসন্ন দেহ
এলিয়ে দেবার সময় এখন।
নিস্তব্ধতার রঙ দিয়ে সারা গায়ে আমার
উল্কি আঁকার সময় এখন।
আমি কান চেপে লীন হতে চাই
অসহ্য জাঁকালো কোলাহল থেকে!
লীন হতে হতে আমি নিরাকার হবো!
নিরাকার হবো আমি আমার পূর্বপুরুষের মতো!
মুঠো বন্ধ করো!
আমার সমস্ত আজ তোমার হাতে সমর্পিত !