শেখ হাসিনার নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে- আহমদ শফী

 আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ  কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক ও আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘কওমী সনদের স্বীকৃতি’এই অসামান্য অবদানের জন্য ইতিহাসের তাঁর (শেখ হাসিনা) স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

রোববার(৪ নভেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে কওমি মাদরাসার আলেম-ওলামা আয়োজিত শুকরানা মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নেই জানিয়ে শাহ আহমদ শফী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে আমার ও হেফাজতে ইসলামের নীতিগত সংশ্লিষ্টতা নেই। মুসলমানদের ঈমান-আকীদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষা করাই হেফাজতে ইসলামের মূল লক্ষ্য। নীতি ও আদর্শের ওপর আমরা অটল-অবিচল আছি। আমার কর্মকৌশল সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার সুযোগ নেই। আমার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অপব্যাখ্যা, মিথ্যাচার করার অবকাশ নেই।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নানা ফিৎনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ বাড়ছে। আমাকে ও হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে। আমি জীবনের শেষ প্রান্তে পা রেখেছি, বিভিন্ন রোগ-শোক, ব্যাধি-বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা সত্তে¡ও আল্লাহর দরবারে শুকর গুজার করছি, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য যেন নিঃস্বার্থভাবে দ্বীনের খেদমত করে যেতে পারি। তিনি বলেন, কওমি সনদ স্বীকৃতির ঐতিহাসিক দাবিটি দীর্ঘদিনের। অতীতে এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের ওলামা-কেরাম বহু আন্দোলন করেছেন। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে বারবার, কিন্তু এই স্বীকৃতির ন্যায্য দাবিটি পূরণ হয়নি। সম্প্রতি বেফাকসহ অন্যান্য বোর্ড সমূহের যৌথ উদ্যোগ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্বীকৃতির দাবিটি ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী দাওরায় হাদিসকে মাস্টার্সের সমমর্যাদা ঘোষণা দেন। ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাস্টার্সের ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবির সমমান দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য-স্বতন্ত্র-স্বকীয়তা বৈশিষ্ট্য ও দারুল উলুম দেওবন্দের চিন্তা- চেতনা এবং মূলনীতিকে শতভাগ অক্ষুন্ন রেখে আইনের খসড়া ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়।

আল্লামা শফী বলেন, দেশ-জাতি-ধর্মের কল্যাণে কওমী ওলামা-কেরামদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে। তাদের মনের ভাষা, আবেগ, চিন্তা চেতনা, অনুধাবন ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে শত আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে কওমি সনদের বিল পাস করে শেখ হাসিনা আন্তরিকতা ও সাহসিকতা সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। এটা নিঃসন্দেহে তার কওমি ওলামা-কেরামদের প্রতি দরদপূর্ণ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া করছি, মোবারকবাদ জানাচ্ছি। মানুষের শুকরিয়া আদায় করা নৈতিক ও দ্বীনই কর্তব্য। তিনি বলেন, স্বীকৃতির মাধ্যমে আমাদের সামাজিক অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল হয়েছে। দ্বীনই খেদমতের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগিয়ে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করায় সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শফী বলেন, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে আপনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। আপনার শাসনামলেও লাখ লাখ কওমি কেরামের সনদের স্বীকৃতি পেয়েছে। আপনার এ অসামান্য অবদান ইতিহাসের সোনালি পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।