সংলাপে আলোচনার দফাওয়ারি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টে মতপার্থক্য !

রাজনৈতিক ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ): জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আলোচিত সংলাপ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় গণভবনে বসবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে । তবে সংলাপে বসার আগেই এর কৌশল কি হবে তা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের খবর পাওয়া গেছে।

বিরোধটা মূলত কোন দফা আগে বলা হবে, আলোচনা হবে তা নিয়ে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপি বলছে, সংলাপের প্রধান ইস্যু হতে হবে ফ্রন্ট ঘোষিত ৭ দফার প্রথমটি। যেখানে বলা হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

অন্যদিকে বিএনপির বাইরে ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য দলগুলো বলছে, ৭ দফার মধ্যে যে দাবিগুলো সহজে গ্রহণযোগ্য, সহজেই মানা যায়, সেগুলো নিয়েই আগে আলোচনা করা উচিত। এক্ষেত্রে ইভিএম বাতিল (২য় দফা), নির্বাচনের সময় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (৩য় দফা), সেনা মোতায়েন (৫ম দফা), কোটা আন্দোলনসহ অন্যান্য আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি (৪র্থ দফা) এর মতো দফার বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে আলোচনা করতে চায় বিএনপি ছাড়া ফ্রন্টের অন্যান্য দলগুলো।

তাদের মতে, এই বিষয়গুলো নিয়ে ফয়সালা করে আস্তে আস্তে প্রথম দফা নিয়ে আলোচনায় আসতে হবে। সবাইকেই কিছু ছাড় দিতে হবে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেই বলেছেন, অন্য বিষয়গুলোতে ছাড় দেওয়া হলেও, সাত দফার প্রথম দফার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা জাফরুল্লাহর মতে, ছাড় দেওয়ার বিষয়টিই হলো সংলাপে আন্তরিকতা। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। যদি আমরা দেখি এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছে যেখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের তাতে রাজি হওয়া উচিত।

এমন পরিস্থিতিতে, বিভক্ত অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আজ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে যাচ্ছে। সেই সংলাপে তাঁরা কী করবেন, সেটাই হলো মূল বিষয় বলে মত বিশ্লেষকদের।