সম্পদ বিক্রি করে দিও,কারো কাছে মাথা বিক্রি করো না- পলাশ

 

স্টাফ রিপোর্টার(আজকের নারায়নগঞ্জ): জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ তার পিতা মরহুম ইদ্রিস আলীর স্মৃতি চারণ করে বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আপোষ-মিমাংসার জন্যে বিভিন্ন ধরনের অফার এসেছে। এ কথা যখন বাবার সাথে পরামর্শ করতাম তখন বাবা বলতো,আল্লাহতায়ালা আমার অনেক সম্পদ দিয়েছে যদি প্রয়োজন পড়ে সম্পদ বিক্রি করে দিও,কিন্তু কারো কাছে মাথা বিক্রি করো না। তারই কথার অনুসরন করতে গিয়ে সংগ্রাম-আন্দোলনে চলতে গিয়ে অনেক পৈত্রিক সম্পদ খুইয়েছি কিন্তু কারো সাথে আপোষ করিনি। এখন বাবার কথা মনে পড়ে।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আলীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোকিত মা ও এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মরহুম ইদ্রিস আলী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ও রেনেঁসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পলাশ  বলেন, ৮৩ সালের দিকে যখন আমাদের গাড়ির ড্রাইভার থাকতো না, তখন বাবা আমাকে বলতো চলতো আমাকে একটু স্কুলে নিয়ে যা। আমি গাড়ি ড্রাইভ করে বাবাকে পাগলা স্কুলে নিয়ে যেতাম। তখন দেখতাম স্কুলে বাবার কর্মকান্ড, ওই স্কুলকে উন্নত করার জন্য ওনার চিন্তা চেতনা। আমার মনে পড়ে, আগে শনিবার আসলে পাগলা স্কুলের শিক্ষকদের বেতন দিতে পারতো। তখন বাবা শিক্ষকদের বেতনের জন্য একটি ফান্ড খুলে দেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় স্কুলের অবকাঠামো, নগদ অর্থ প্রদান করতেন আমার বাবা। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি তিনি। নারায়ণগঞ্জে মর্গ্যাণ স্কুলের মধ্যেও যথেষ্ট অবদান রেখে গেছেন। অবদান রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে, সেখানে শহীদ মিনার স্থাপনে বাবা অনুদান দিয়েছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা নিমার্ণে বাবাকে সহযোগীতা করতে দেখেছি।
পলাশ বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সমাজে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমি দেখেছি বাবাকে। আমি স্কুলে পড়া অবস্থায় বাবাকে দেখেছি, ন্যায় সঙ্গত জায়গায় নিজে কত মানসিক ভাবে শক্তিশালী থাকা যায়, সেটা আমি আমার বাবার কাছ থেকে শিখেছি।
পলাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, মায়েরা পরিশ্রম করছেন সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, কেন, আমি তো জীবনের কিছুই করতে পারলাম না বা যতটুকুই করেছি, আমার থেকে অনেক বড় হবে আমার সন্তান। আমার থেকে অনেক বড় হয়ে ভবিষ্যতে আমাকে লালন পালন করবে। এই চিন্তাটা মায়েরা করছেন।
আমি আপনাদের চিন্তার সাথে আরেকটা বিষয় যোগ করতে চাই, আমার সন্তানকে শুধু আমার জন্য প্রতিষ্ঠিত করবো না, আমার সন্তানকে সারাদেশের জন্য, সারা পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য আমার সন্তানকে এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করবো, যে শিক্ষা সারা পৃথিবীর মানুষের কাজে লাগবে। আমার সন্তানকে সেই ভাবেই গড়ে তুলবো,এ শপথটা হবে আমার মায়ের।

তিনি আরো বলেন,অনেকে মসজিদ করে, অনেকে মাদ্রাসা করে, অনেকে কোন বৃদ্ধাশ্রম করে, অনেকে দান সদকা করে, সেই দান সদকা থেকে অনেক বেশি উত্তম, একটা সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ জাতি ও মানুষের জন্য রেখে যাওয়া। কেননা, একজন সুশিক্ষিত সন্তান দ্বারা সমাজের যত উপকার হবে, তার জন্য এমনকি আপনার জন্য মানুষ দু‘হাত তুলে দোয়া করবে।
রেনেঁসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোখলেসুর রহমান তোতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি নাফিজ আশরাফ, আলীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিখিল কুমার সরকার, প্রধান শিক্ষিকা নমিতা দাস, আলীগঞ্জ ক্লাবের সাধারন সম্পাদক নূর ইসলাম সরদার, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. জাহাঙ্গীর আলম, আলীগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি হাজী মো. মফিদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক হাজী মো. মনির উদ্দিন, আলীগঞ্জ মাদ্রাসার সাধারন সম্পাদক হাজী মো. নাছির উদ্দিন, আলীগঞ্জ ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. আরিফুল ইসলাম,ফতুল্লা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি আনিসুজ্জামান অনু, রেনেঁসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, সাধারন সম্পাদক শেখ মো. হাফিজ প্রমূখ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, রেনেঁসা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহ সভাপতি মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির।