মডেল প্রিয়তিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার আন্ডা রফিকের!

বিনোদন ডেস্ক(আজকের নারায়নগঞ্জ):   রফিকুল ইসলাম একই সাথে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। রাতারাতি টাকার কুমির হয়ে গেলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আন্ডা রফিক’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। তিনি  রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের আলোচিত-সমালোচিত চেয়ারম্যানও ।সম্প্রতি নারায়নগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়নেও আগ্রহী।

সেই রফিককে নিয়ে বোমা ফাটালেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত মিস আয়ারল্যান্ড মাকসুদা প্রিয়তি।  মডেল ও অভিনেত্রী প্রিয়তির অভিযোগ রফিকুল ইসলাম রফিক নাকি তাকে রেপ করতে চেয়েছিলেন।এই মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডে রয়েছেন প্রিয়তি। সেখান থেকেই ফেসবুক পেজে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের কথা, তখন তিনি সবে মিস আয়ারল্যান্ড খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। সে সময়ে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রিয়তি। এমনকি তাকে রেপ করতে চেয়েছিলেন। যা প্রিয়তি ভিডিও বার্তায় প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) প্রিয়তি তার ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেন, এই লোকটি তার অফিসে হঠাৎ করে টেবিল থেকে উঠে এসে আমার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে আমার বক্ষে চাপ দেয়, ২০১৫ সালের মে মাসে তাদের প্রোডাক্ট প্রমেক্স-এর বিজ্ঞাপনের পেমেন্ট আনতে গিয়ে (এই পেমেন্ট যদিও আমি পাইনি)। সাঈদা যেমিরান জামান লোপা আপু, আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে, আপনাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছিল আমার সাথে প্রাইভেট কথা আছে এই কথা বলে। আর রুম থেকে বের হয়ে আমি আপনার কাছে কান্না করেছিলাম এই পিশাচের এই কর্মকান্ডে, মনে আছে আপু , নাকি অস্বীকার করবেন? খালেদ হোসাইন সুজন, তোমার কি মনে আছে এ ঘটনার পর আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করেছিলাম এই অপমান সহ্য করতে না পেরে কিন্তু আমরা নিরুপায় ছিলাম তাদের ক্ষমতার কাছে। আমি কিন্তু তখন কারেন্ট মিস আয়ারল্যান্ড ছিলাম।

প্রিয়তি তার ওই পোস্টে আরও লিখেন, বাংলাদেশে #মিটু এর মুভমেন্ট কীভাবে হবে? এই লোককে নিয়ে কেউ কোনো নিউজ করবে না, কারণ গণমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিকদের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশিরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। কীভাবে খুলবে মেয়েরা মুখ? যেখানে জানবে তাদের কিছুই হবে না। এই লোকটির নাম রফিকুল ইসলাম, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ডান হাত। এই পোস্টের পর হয়তো আমার নামে মানহানির মামলা হবে , না হয় বলবে অসৎ উদ্দেশ্য আছে আমার ইত্যাদি ইত্যাদি।

বাংলাদেশের মেয়েরা ততদিন মুখ খুলবে না, #মিটু ও হবে না, ভারতের মতো যতদিন ওরা অনুভব করবে তাদের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন এবং তাদের পাশে থাকবে সে যত উপরের মানুষই হোক না কেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, পুরো ঘটনাটি লজ্জায় লিখতে পারিনি কারণ ঘটনা এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল।

এছাড়াও মাকসুদা প্রিয়তি আরও একটি স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন তার জীবন এখন হুমকির মুখে। তাকে যে কোনো সময় হত্যা বা খুন করা হতে পারে। আর এ জন্য দায়ি থাকবেন রফিকুল ইসলাম।

 

এমনটি জানিয়ে তিনি লিখেন, রংধনু গ্রুপের ওয়েবসাইট অলরেডি ওরা উধাও করে ফেলেছে। আমার জীবনের যদি কোন ক্ষতি হয় অর্থাৎ প্রানহানী করার ঘটনা ঘটে তাহলে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম দায়ী থাকবেন। কারন তিনি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তিন বছর আগেই, এমনকি আয়ারল্যান্ড এ এসে-ও আমাকে মেরে ফেলা তার জন্য নাকি দুই পয়সার ব্যাপার।

এছাড়াও প্রিয়তি সর্বশেষ আরও একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেন দেখুন গিয়ে আজ রাতেই পালিয়ে যাচ্ছে মিঃ রফিক সিঙ্গাপুরে , কারণ তার বৈধ/অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা হয় সিঙ্গাপুর এবং মালয়েসিয়া থেকে আমি যতখানি জানতাম। রংধনু গ্রুপের ওয়েবসাইট উধাও করে ফেলার কারণ কি , তা কি বোঝার আর বাকি আছে কারও? যাতে তাদের কোন ছবি ও ইনফরমেশন না পায়, এই কারণে।

এ বিষয়ে অবশ্য গনমাধ্যমের কাছে  রফিকুল ইসলাম রফিক ঘটনাটি ১০০ ভাগ মিথ্যে বলে দাবী করে বলেন, সে সাড়ে ৩ বছর আগের ঘটনা নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। যদি সত্য হতো তাহলে সাড়ে ৩ বছর আগে বললো না কেন? এখন কেন বলছে? আমি মনে করি এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।