ধর্ষনের দায়ে কারাবন্দী তাপসের পরিবারের না‘গঞ্জে মানববন্ধন

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক:  ফতুল্লায় এডুকেশন কেয়ার হোম নামক কোচিংয়ের পরিচালক তাপস কুমার সিংহের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে নগরীতে মানববন্ধন করেছে তাপসের পরিবার ও কোচিংয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন করে তারা। এ সময় তাপসের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, কোচিংয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ তাদের অভিভাবকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, তাপস কুমার সিংহের স্ত্রী রেখা সিংহ, ছোট ভাই লিটন কুমার সিংহ, কোচিংয়ের শিক্ষিকা সুমনা ইসলাম, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে খাদিজা আক্তার।

এ সময় তাপস কুমার সিংহের ছোট ভাই লিটন কুমার সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, ১৯ বছর যাবত এই কোচিং পরিচালনা করছে আমার ভাই তাপস কুমার সিংহ। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তার দাবী, ঘটনার অভিযোগে যে দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওইদিন ওই ছাত্রী কোচিংয়েই আসেনি। এমনকি বেশ কয়েকদিন যাবত সে কোচিংয়ে আসে না। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে ছাত্রীর মা কোচিংয়ে মেয়ের খোঁজ নিতে আসলে তাকে জানানো হয় যে, বেশ কয়েকদিন যাবত তার মেয়ে কোচিংয়ে আসে না। তখন সে (ছাত্রীর মা) নাকি ঢাকা থেকে এসেছে বলে কিছু জানেন না বলে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, এরপর আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রীর দুলাভাই পরিচয়ে নূর নামে এক ব্যক্তি মুঠোফোনে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় কোচিং বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দেয়। তখন আমরা মেয়ের বাবা অপু ভাইকে ফোন দেই। সে তখন সম্পূর্ণ ঘটনা শুনে বলে, ওর (মেয়ের দুলাভাই) সাথে কথা বলার দরকার নাই। অপু ভাই বলে সে (মেয়ের দুলাভাই) ফোন দিলে আমরা যেন বলে দেই অপু ভাই এ ব্যাপারে কথা বলতে না করেছে। ওই দিন এভাবেই চলে যায়। পরের দিন ২২ অক্টোবর আমাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে, ফতুল্লা থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করি। ওইদিন বিকেলে থানায় গিয়ে সেখানে মেয়ের বাবা-মাকে দেখতে পাই। তখন জানতে পারি, ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।

তাপসের ভাই আরো বলেন, ভাইয়ের নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সবই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কেউ আমাদের প্রতিষ্ঠানের দূর্নাম রটানোর জন্য এই ঘটনা সাজিয়েছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর ফতুল্লায় এডুকেশন কেয়ার হোম নামে এক কোচিংয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় কোচিংটির পরিচালক তাপস কুমার সিংহকে। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা মিজানুর রহমান অপু বলেন, আমার মেয়ে এই কোচিংয়ে পড়ে তিনমাস যাবত। এর আগেও তাপসের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় আরেক ছাত্রী শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করেছিল। এই অভিযোগে সে গ্রেপ্তারও হয়েছিল।

পূর্বে আরেক ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে তাপসের ভাই লিটন  বলেন, গত বছর চক্রান্ত করে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অভিযোগকারী ছাত্রীই আবার থানায় গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে বলে তার অভিযোগ তুলে নেয়।

এদিকে মামলার সম্প্রতি তাপসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আসলে ঘটনাটা বোঝা যাচ্ছে না। মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।