ফাঁসির দড়ি-জরিমানা সামনে নিয়ে গাড়ি চালানো যায় না- পলাশ

 

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্কঃ জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব কাউছার আহম্মেদ পলাশ বলেছেন, ‘কেউ ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। দুর্ঘটনায় সবার মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্বের ঝুঁকি রয়েছে। এরপরও বিরানহীন গাড়ি চালাই। দুর্ঘটনা ঘটলেই সব দোষ চালক-হেলপারের নয়। ইচ্ছে করে মানুষ কেউ মারতে চায় না। ফাঁসির দড়ি-জরিমানা সামনে  নিয়ে গাড়ি চালানো যায় না। কেউ পারবেন না। আমাদের দাবি নতুন আইন বাতিল নয়, সংশোধন।

শনিবার(২৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৮ দফা দাবিতে পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

পলাশ বলেন, আমরা ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছি। সরকারের বিভিন্নপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের দাবি আপনারা মানেননি। আমাদের দাবি বাস্তবায়নে জন্য কাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলবে। একটা শ্রমিককে জরিমানার বিধান করেছেন ৫ লাখ টাকা। শ্রমিকের যদি ৫ লাখ টাকাই থাকতো তবে সে গাড়ি চালাতো না। গাড়ির মালিক হয়ে যেতো।’

তিনি বলেন, দেশের এমপি হতে সার্টিফিকেট লাগে না। প্রধানমন্ত্রী হতে এসএসসি পাস লাগে না। অথচ গাড়ির চালক হতে নাকি এসএসসি পাস লাগবে। আমরা এমন আইন মানি না। পরিবহন শ্রমিকরা কলাগাছ না। ধাক্কাধাক্কি করবেন না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিলে আমরাও কাউকে ছাড়বোনা।

নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের প্রশংসা করে পলাশ বলেন, তিনি মেহনতি মানুষের পক্ষে আছেন। তার বিরুদ্ধে অনেকে কথা বলেন। কিন্তু তিনি অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। নিরাপদ সড়কের কথা বলেন, কিন্তু সড়ক নিরাপদ করতে পারেন না। লরি চলে, ট্রাক চলে দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। কোথায় বিশ্রামের জায়গা নাই, পানি পানেরও ব্যবস্থা নাই। সড়কের নিরাপত্তা নাই। শুধু সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য শ্রমিকদের ফাঁসির দড়ি ঝোলানোর কথা বলা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাল থেকে শুরুর আন্দোলনে পিকেটিং থাকবে না। কিন্তু থার্ডপার্টি, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো পক্ষ যদি বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে তবে তা রুখে দেয়া হবে’ বলেন শ্রমিক নেতা পলাশ।

এসময় দেওয়া ফেডারেশনের ৮ দফা দাবিগুলো হলো : সড়ক দুর্ঘটনায় সব মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে; শ্রমিকদের অর্থদ- ৫ লাখ টাকা করা যাবে না; সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে; ড্রাইভিং লাইসেন্সে শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে; ওয়েস্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করতে হবে; সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে; গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিযয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকার ব্যবস্থা করতে হবে; সব জেলায় শ্রমিকদের ব্যাপক হারে প্রশিক্ষণ দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে এবং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট পালন করেন।

উপস্থিত ছিলেন, প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান হিরু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান প্রমুখ।

এসময় মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন , বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিন বঙ্গে লাইন সম্পাদক আবুল হোসেন, ইউনাইটেড ফেডারেশন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স এর সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেন্টু, ফতুল্লা থানা লোড আনলোডের সভাপতি জাহাঙ্গীর মেম্বার, পাগলা শাখার কার্যকরী সহ সভাপতি বাবুল আহম্মেদ, সাধারনর সম্পাদক মোঃ জজ মিয়া. সাংগঠনিক সম্পাদক বশির, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উবায়েদুর রহমান উবায়েদ, মোঃ ফারুক আকন, মোবারক হোসেন, নুরিসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন, শেখ মোঃ ইমান আলী, মোঃ বাবু, সাইদুর রহমান আনিছ মাষ্টার প্রমুখ।