জুটি ছাড়া কারো স্থান নেই!

লেখক,অাজাহারুল ইসলাম//-
প্রধান শিক্ষক,
কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়,মান্দা, নওগাঁ:

ওর নাম ডি.জে. জেসিকা। দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।

কাজল দীঘির মতো সে চোখের গভীরতা, কী সুন্দর চাহনি ! ও চোখের মায়ায় যাদু আছে।

পথিক পথ হারিয়ে ফেলতে পারে সে মায়া ভরা যাদুর ছোঁয়ায়।

প্রশস্ত কপোলের মাঝখানে বিশেষ দিনগুলোতে লাল টিপ পরতে কখনই ভূল করে না।

উচ্চতা চেয়ে দেখবার মতন,খুবই মিষ্টি ! একবার তাকালেই মন ভরে যায়।

ভীষণভাবে মুগ্ধ হয়ে মনের অজান্তেই যে কেউ বলে ফেলতে পারে I

love you, হোক না সে মনে মনে, হোক না সে প্রকাশ্যে । প্রাণবন্ত এবং উচ্ছ্বসিত গোল গাল মুখের গড়নে চাঁদ হাসে।

চন্দ্রমুখের হাসিতে মুক্তো ঝরে। তুষার শুভ্র ঝকঝকে সাদা সাদা দাঁতের গাঁথুনি যেনো কোনো দক্ষ নিপুণ কারিগর নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়ে রেখেছে।

এ রূপ ভরা পূর্ণিমার চাঁদকেও ম্লান করে দিয়েছে । আমি তার মুখশ্রীকে আজকের রাতের ভরা পূর্ণিমার চাঁদের মুখশ্রী থেকে আলাদা করতে পারিনি।

এ যেনো কারো নিশীথ রাতের কল্পনায় দেখা স্বতঃস্ফূর্ত স্বপ্ন ঘুড়ির অমিয় আলো যা অন্ধকার সরিয়ে ফুটন্ত স্নিগ্ধ সকাল এনে দেয়।

” বলতো আমার হাতে কি আছে ?” জেসি অভিকে বললো। কিছু নেই, অভি বললো।

হাতটা কি ফাঁকা পড়ে থাকবে, ফাঁকাই রাখবো ? অভিকে একটু চঞ্চল আর আনমনা দোখালো জেসির কথায় ।

স্থির চোখে তাকিয়ে আছে জেসির দিকে। “আমি যে কে তোমার, তুমি বুঝে নাও ।

শত ঝগড়ার পরেও আমি শুধু তোমাকেই চাই, তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারবো না।

সুখে থাকার জন্য বেশী কিছুর দরকার নেই অভি। একটা বিশ্বাসযোগ্য হাত যথেষ্ঠ, তাতেই হয়। আর সে হাত তোমার।

আমার দিকে বাড়িয়ে দাও।” অভি বাড়িয়ে দিলো এবং বললো আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে তুমি ।

তোমার চোখে নির্মল আকাশ দেখি, আর হাসিতে জোছনা । প্রতিটি প্রার্থনায় তুমি ছিলে,আছো,থাকবে।

যা সারা পৃথিবী খুঁজলে পাওয়া যায় না তার নাম কি অভি ? অভির নিকট থেকে উত্তর না আশায় জেসি ওকে বললো ভালোবাসা, বিশুদ্ধ এক চিলতে ভালোবাসা।

স্বর্ণের মতো, হীরার মতো । চাতকি আমি সাগর মোহনায় এক ফোটা জলের আশায়, সে জল তুমি। আমি সত্যিই তোমাকে খুব ভালোবাসি।

তুমি না থাকলে আমি সঙ্গীহীন, শূন্য,যাযাবর………..

সুখি হওয়ার রাস্তায় আমরা দুজনে এক হয়ে গেছি। ভালো কাজ করতে গেলে কেউ না কেউ বাধা দিবেই।

কথা দাও, ছেড়ে যাবে না কোনোদিন ! না, যাবো না । তাহলে এখানে যা হচ্ছে – চলো আমরাও করি।

অভি আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেলেও জেসি পেলো না। সেই তখন থেকে হাত ধরে আছে। ছাড়ার কথা নেই।

হাত ধরাধরি দেখে আমি অন্যদিকে দৃষ্টি দিলাম। ভাবছি, আজ মুঠোর মধ্যে যে হাত তা কি জীবনভর ওভাবে বন্দি রবে, নাকি অন্য কারো হাতের ছোঁয়ায় ছিঁড়ে যাবে !

দুজন দু দিকে ছিটকে পড়বে ? ভালো মানুষ মোমবাতির মতন হয়, নিজে জ্বলে পুড়ে সবকিছু আলোকিত করে, হয়তো ইহা জগতের অলিখিত নিয়ম।

পুরো মাথায় নানান বিষয় শাখা প্রশাখা বিস্তার করলো। একেক জন একেক ভাবভঙ্গি প্রদর্শনে টুকি মেরে যাচ্ছে।

আমি ঘুরে ঘুরে সব দেখতে লাগলাম। কারো দিকে কারো খেয়াল নেই। প্রেম- টেম কিছু না।

সব জামা খোলার ধান্দা। খুলে ফেলেছে অনেকেই। মনে হচ্ছে মগের মুল্লুক ! হায় হায় ! ধর্ম কর্ম আর রইলো না !

পোশাক আশাক কারো শরীরে কি আর আছে ! ওরে !

কী সব ছবি ক্যামেরায় ধারণ করছে – ওই পাজি খাটাস, বদমাশরা।

ভেবেছিলাম কী, আর হচ্ছে কি। এরা যে গাঁজাখুরের দশ গুণ পন্ডিত গাঁজাখুর,ফেন্সিখুর,মদখুর……খুর মশাইগণ,বজ্জাত ।

কার হাত কোথায় যাচ্ছে ! এ হয় যদি romance, তাইলে খারাপ বলে কিছু নেই। ঘাঁটি ছাড়াই ল্যান্ড করে আছে।

শয়তানের পাছায় খই ভেজে খাওয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। ঢলাঢলি,কামড়া কামড়ি…….. কোনটার বাদ রাখেনি,রাখছে না পাক্কা চোরের দল,জুয়াচোর ।

জেসি জুটি ছাড়া নিরীহ এবং কোমল হৃদয়ের কেউ নেই।

উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং বাস্তবতায় তারা ভিন্ন অন্যরা বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদর ঘাট !

কে কার চেয়ে বেশী ছিঃ ছিঃ যাদু দেখাতে পারে তা নিয়েই মহা ব্যস্ত।

আজ যার জন্য ঠোঁটের কোণায় হিহি হাহা লেগে আছে, কালকে তার জন্য চোখের দু কোণায় বিন্দু বিন্দু, কখনো বাদলের ধারার মতন নোনাজল বাসা বাঁধবে না – এমনটা কি আমরা আগে থেকেই বলতে পারি !
চলবে…

সংগ্রহ ও সংকলনে: সাংবাদিক ও সার্ভেয়ার মাহবুবুজ্জামান সেতু,
নওগাঁ।