ছোনাম মেলেক

 

লেখক,অাজাহারুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক,

কয়াপাড়া কামারকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়,মান্দা, নওগাঁ:

ওর নাম ছোনাম মেলেক। গত রাতে মনটা ভালো ছিলো না। অন্ধকার ঘরে অনেকক্ষণ কেঁদেছে। আজ আবার সকাল বেলা বাড়ির ছাদ থেকে নিচের দিকে ঝাপ দিতে দেখা যাচ্ছে।

কে একজন এসে পেছন থেকে ধরায় এ যাত্রা তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।

জীবনের কিছু থাকে যা কোনোদিন বলা হয়না, হবেও না। স্বাদে অপূর্ব, কিন্তু কাঁটায় ভর্তি।

ঘুম ভাঙলে সকাল,না ভাঙলে পরকাল ; অই তারার দেশ।

এই পৃথিবীতে মুখের থেকে মুখোশের সংখ্যা বেশী। মেলেক কি এক মাত্র ব্যক্তি যে সত্য কথা বলতে এসে অন্যের বিরাগভাজন হওয়ার রাস্তা নির্মানের কাজে হাত দিয়েছিল !

মেলেকির জীবনের সবচেয়ে বড় ভূল সিদ্ধান্তটা কি ছিলো যার খেশারত এখনো সে দিয়ে চলেছে?

এই পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে বেশী ধোকা খায়, লাঞ্চিত হয়,নিজের সর্বনাশ ডেকে আনে – যে মানু্ষকে অন্ধের মতো ভালোবাসে,বিশ্বাস করে।

কারো মনোজগতে,ভাবনার করিডোরে আঘাত দিয়ে নয়,কাউকে ভালোবেসে সরল চিন্তায় তার মনে অনুভূতির অতল স্পর্শ হয়ে বেঁচে থাকার সাধ তার অপূর্ণই থেকে যাবে, নাকি পূর্ণ হবে ?

সেই কথা শোনাতে প্রিয় পাঠক আপনার নিকট এসেছি।

নিজ মতের বিরুদ্ধে মা বাবা এবং আত্মীয় স্বজনকে খুশি করতে গিয়ে ছোনামের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়।

ছয় মাস ঘর সংসার করার পর ছোনাম স্বামীগৃহে আর ফিরে গেলো না।

কোনোভাবেই তাকে তার পিতা মাতা রাজি করাতে পারেনি।

তাই সে নিজ গরজে একাদশ শ্রেণিতে এ বছর ভর্তি হলো। সে নিয়মিত কলেজে যায়। রূপ চেহারা আহা মরি না হলেও চোখে পড়ার মতো ।

দেখতে ভালোই বলতে হয়। আজ ‘ ও ‘ নীল রঙের শাড়ি পরে কলেজে এসেছে।

এর আগেও এভাবে এসেছে। তাই এ আর নতুন কি !

সুন্দর না ছায় – অতীতের খোঁটা অনেকেই তাকে দিয়েেছে।

ওকে ওর এলাকার ছেলে মেয়েরা বেশী কষ্ট দিয়েছে। তাদের মুখ থেকে অন্যান্য ছেলে মেয়েরা শুনেছে একটা, জোড়াতালি দিয়ে বলেছে অন্যটা।

এই কলেজে দুই ক্লাস ওপরে পড়ে জুলিয়ান ডিলন। তার সাথে অতি সম্প্রতি ছোনামের কেমন করে যেনো বেশ ভাব হয়েছে।

কলেজের ভিতরে একটা পুকুর আছে।তার উত্তর পার্শ্বের শিমুল গাছের নিচে বসে দুজন গল্প করছে।

নিকট দূর থেকে অনেককেই মুখ টিপে হাসতে দেখা গেছে। ডিলন বুঝতে না পারলেও ছোনামের দৃষ্টি এড়ায়নি।

ডিলনের দিকে ছোনাম তাকিয়ে বললো,”সবাই কষ্ট দেয়, আর আমি সেটা গ্রহণ করি।

কখনো বুঝিনি,সব হারিয়ে এখন বুঝি। “তোমার আবার কি হারালো- ডিলন ছোনামকে বললো।

“না,কিছু না। থাক ওসব কথা। বেলা পড়ে এসেছে।বাসায় যাবো। ফোনটা খোলা রেখো।”

ডিলন সোনামের সাথে রাস্তা পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে গেলো। ওরা একে অন্যকে বিদায় জানালো…….. অসমাপ্ত।