ফসলের সাথে শত্রুতা? নওগাঁর পত্নীতলায় ১৮বিঘা জমির ধান পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ!

 

মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁর পত্নীতলায় গত বুধবার গভীর রাতে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকগোবিন্দ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক নরেশ হেমরম ও মার্চেলিউস হেমরম নামে দুই সহোদরের ১৮বিঘা জমির ধান আগাছা নাশক বিষ প্রয়োগে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল চকগোবিন্দ ডাঙ্গাপাড়া গিয়ে ভুক্তভূগী পরিবার ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, উক্ত গ্রামের মৃত বলরাম হেমরম এর ছেলে নরেশ হেমরম ও মার্চেলিউস হেমরম এর সহিত একই গ্রামের মৃত বাজুল হেমরমের পুত্র শিবলাল হেমরম এবং মৃত সজিলা হেমরম এর পুত্র পাউলুস হেমরম ও পরিমল হেমরম এর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

এরই মধ্যে গত বুধবার গভীর রাতে জমির মালিকানা দাবীকারী শিবলাল, পাউলুস ও পরিমল লোক ভাড়া করে ১৮ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগ করে।

জমির মালিক নরেশ ও মার্চেলিউস হেমরম বলেন, রাতের বেলায় জমিতে বিষ প্রয়োগের সময় তারা দূর হতে দেখেছেন।

কিন্তু অনেক লোকজন থাকায় কাছে যেতে সাহস পাননি।

পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণবল্লভ গ্রামের মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে ভুট্টু, মৃত মেহের বক্সের ছেলে মোসলেম এবং খড়খড়ি গ্রামের মৃত কবিরাজ বাস্কের ছেলে সরদার বাস্কেকে তাঁরা জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে দেখেছেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জমির মালিকানা দাবীদার কৃষ্ণবল্লভ- চামরাভিজা গ্রামের মৃত গনেশ মর্মুর ছেলে উনিল মর্মু এবং শিবলাল, পাউলুস ও পরিমলের সাথে কথাবলে জানাগেছে, তাদের বিরুদ্ধে অানীত ধান পোড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তারা জানায় অামরা ধান পোড়ানোর সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং এসব বিষয়ে অামরা কিছুই জানিনা।

মূল বিষয় হচ্ছে যে, বিবাদমান জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অাদালতে মামলা চলমান অাছে।

তবে অার এস রেকর্ডে ভ্রমাত্মকভাবে বলরাম নামে জমিটির খতিয়ান প্রস্তুত হয়,যা সঠিক নয়।

বলরামের প্রকৃত ওয়ারিশ অামরা। অথচ, রাতের অাধারে কে বা কারা ধানে অাগাছানাশক (বিন্নামারা) বিষ প্রয়োগ করেছে অামাদের এটি জানার বাহিরে।

অথচ,অামাদের ফাঁসানোর জন্যই এমন অভিযোগ অানয়ন করা হয়েছে।

অামরা গরীব মানুষ দিন মজুরী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। অামরা কেনো এমন কাজ করতে যাবো?

ইতিপূর্বেও তারা অামাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানী- পেরেশানীর মধ্যে রাখছে।

অামরা সারাদিন কাজ করে বাড়িতে ফিরে রাতে একটু প্রশান্তির ঘুমও ঘুমাইতে পারি না। বরই অাতংকের মধ্যদিয়ে দিন পার করি অামরা।

কেননা,খ্রিষ্টীয়ান মিশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী জমির প্রকৃত মালিক বলরাম।

যার বাবার নাম মসুই হেমরম না হয়ে বাগরাই নামে অার এস রেকর্ড হওয়ার কারনেই এই মামলার সূত্রপাত।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।