রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কিছুটা সময় লাগবে –অং সান সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে এই প্রথম মুখোমুখি কোনো সাক্ষাৎকারে আশ্বাস দিলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

গত বৃহস্পতিবার জাপানের সংবাদ মাধ্যম এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অং সান সু চি এ আশ্বাসের কথা বলেন।

মিয়ানমার কীভাবে শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জন করবে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, ‘আস্থা দুই পক্ষের ব্যাপার। আস্থা তৈরির বিষয়টি কেবল মিয়ানমারের ওপর নির্ভর করে বলে আমার মনে হয় না। অপর পক্ষকেও আস্থা তৈরির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আমরা ফরম দিয়েছিলাম শরণার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য, যেগুলো পূরণ করে দেওয়া কথা। কিন্তু সেভাবে ফরমগুলো বিতরণ করা হয়নি। ফরমগুলো বিতরণ করা না হলে এবং শরণার্থীরা আইনসম্মত ও বৈধ উপায়ে রাখাইনে ফেরার উপায় না জানলে আমরা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারব না।’

সহিংসতার শিকার হয়ে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা গত বছরের আগস্টে পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ এই সামরিক সহিংসতাকে জাতিগত নিধন বলে অভিহিত করেছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অবস্থার শিকার এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে একেবারে নীরব থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়েই তাঁকে নিয়ে চলছিল তীব্র সমালোচনা।

এনএইচকে-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, ‘মিয়ানমার এবং এর বাইরে খুব কম মানুষই ঐতিহাসিক কারণগুলোর ব্যাপারে সচেতন। শুধু বহির্বিশ্বের মানুষই নয়, আমাদের দেশের মানুষদেরও বুঝতে হবে আসলে কী ঘটে চলেছে, আর সরকার যা করছে তা কেন করছে। আমরা শেষমেশ নিজেদের দেশে একটা স্থিতাবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’

সু চি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তাঁদের ব্যাপারে মিয়ানমারের অন্য মানুষের মনে যে গভীর বিদ্বেষ আছে সেটা দূর হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

গত বুধবার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সু চি বলেন, ‘চুক্তিতে শরণার্থীদের ব্যাপারে যেসব দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত তার সবই আমরা গ্রহণ করেছি।’

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বাস্তবতা নিয়ে জানতে চাইলে সু চি বলেন, ‘মিয়ানমারে সামরিক প্রভাব এখনো শক্তিশালী। পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন এখন পর্যন্ত জেনারেলদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। আসলে আমরা এখনো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের সংবিধানও পুরোপুরি গণতান্ত্রিক নয়।’