মোমের আলোয় এইচএসসি পরীক্ষা

কক্ষে পরীক্ষার্থীরা লিখায় ব্যস্ত। প্রতিটি টেবিলে একটি করে মোমবাতি জ্বলছে।
দৃশ্যটি বৃহস্পতিবার (১০ মে) সকালের সরকারি তোলারাম কলেজে পরীক্ষা দেয়ার দৃশ্য। সকাল ১০টা থেকে টানা দুই ঘন্টা এভাবেই মোমের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ছিল অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ অন্ধকার নেমে আসে তার ওপর ছিল ধুম ঝড় আর বৃষ্টি। এদিকে কারেন্ট ও কখন থেকেই আসা যাওয়াতেই ছিল। ঝড় আসায় সমস্যাটা দ্বিগুন হয়ে যায়।

রুমও অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আমরা কেউই লিখতে পারছিলাম না। তাই বাইরে থেকে মোম আনিয়ে প্রতিটি রুমেই মোমবাতি জ্বালানো হয়। তবে কলেজের কিছু ভবনের কয়েকটি কক্ষে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় সেখানে মোমের প্রয়োজন হয়নি।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবির জানায়, একটা পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা যদি এমন হয়। তাহলে আর কী বলব। কিছু বলার নাই।
আরেকজন জানায়, কলা ভবনের নীচতলা থেকে শুরু করে প্রায় অনেকগুলো কক্ষেই মোমের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। টেবিলের মাঝে মোম দেয়া হয়েছিল। ৩ থেকে ৪টি টেবিল পর পর মোম দিলেও দেখতে ও লিখতে অসুবিধা হয়েছে।

তবুও লিখছি। আল্লাহ আল্লাহ করে পাশ নাম্বারটা আসলেই হল। তবে আমরা আশা করছি আগামীতে যাতে এ বিষয়টিতে লক্ষ্যে রাখা হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিবাবক জানান, এর আগেও নারায়ণগঞ্জে একাধিক কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিৎ প্রতিটি হলরুমে দ্রুত বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশ থমথমে। কিন্তু সকাল ১১টার দিকে আকাশ একেবারেই অন্ধকার হয়ে আসে। এর মধ্যে সকাল দশটা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরপরই ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু হলে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্নস্থানে বিভ্রাট দেখা যায়।

আর এ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবল থেকে রক্ষা পায়নি পরীক্ষার্থীরা । যদিও প্রশ্নপত্র দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোমবাতির ব্যবস্থা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।