আজকের নারায়ণগঞ্জ ডেস্ক: ১৬ ডিসেম্বর, বাঙ্গালী জাতির বিজয় দিবস। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে এদিন। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। সেই হিসাবে বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্তি হবে এ বছর।
বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠতম আত্মদানে অর্জিত শ্রেষ্ঠতম গৌরবের বিজয় দিবস । ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রক্তাক্ত অভ্যুদয় ঘটেছিল, সে বছরেরই ১৬ ডিসেম্বর সেই রাষ্ট্র শত্রুকে পরাজিত করে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতার সেই লড়াইয়ে যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের সবার প্রতি রইল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শহীদদের উদ্দেশে বলি: আমরা তোমাদের ভুলব না, ভুলব না।
সাড়ে সাত কোটি মানুষের অসীম ত্যাগ আর সাহসিকতার ফসল ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অকুতোভয় সংগ্রাম, রাজনৈতিক নির্দেশনায় সামরিক নেতৃত্বের বুদ্ধিদীপ্ত ও অবিচল লড়াই, বুদ্ধিজীবী-লেখক-শিল্পীদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই বিজয় সম্ভব হতো না। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জোরালো সহযোগিতা এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক রাজনীতিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকের নৈতিক সমর্থন। আমরা তাঁদের অবদানও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।
স্বাধীন স্বদেশকে নিয়ে আমাদের স্বপ্ন ছিল অনেক। কিন্তু গত ৫৩ বছরের ইতিহাস আশাহত হওয়ার ইতিহাস। সন্দেহ নেই, দারিদ্র্য-পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার ঘটেছে, উৎপাদনের ভিত্তি কিছুটা জোরালো হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। কিন্তু তবু শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা থেকে আজও আমরা অনেক দূরে। জাতীয় রাজনীতি কলুষিত; দুর্নীতি ও সন্ত্রাস হয়ে উঠেছে রাজনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। দলে গণতন্ত্রচর্চা নেই; দলে দলে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতার বড্ড অভাব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়নি, আইনের শাসন দুর্বল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত হয়নি। মানুষে মানুষে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে, দুর্নীতি কমেনি। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয়, জনসাধারণের গণতান্ত্রিক চেতনা বেড়েছে। শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি হয়েছে আগের চেয়ে অনেক জোরালো।
এই হতাশার মধ্যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই আশার আলো বাঁচিয়ে রেখেছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির চালিকাশক্তি তারাই। ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে তারা বারবার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। আশা করি, জনতার এই অবস্থান বিজয় দিবসে আরও শক্তিশালী হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। গতকাল বিকালের আগেই স্মৃতিসৌধ ধোয়া-মোছা ও রংতুলির কাজ শেষ হয়। তিন বাহিনীর গার্ড অব অনারের মহড়ার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
বিনম্র শ্রদ্ধায় আজ দিবসটি পালন করবে দেশ-বিদেশের বাঙালি ও বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। সকাল থেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নামবে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ দেয়া শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মোঃ কাউসার মিয়া
বার্তা সম্পাদকঃ মীমরাজ হোসেন
প্রকাশকঃ মোঃ কামরুল ইসলাম
Copyright © 2026 আজকের নারায়নগঞ্জ. All rights reserved.