1. admin@ajkernarayanganj.com : admin :
বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

জাইল্লার ছেলে হঠাৎ কোটিপতি, এলাকায় চাঞ্চল্য

আজকের নারায়নগঞ্জ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ১৭৮৭ বার পঠিত

সোনারগাঁ প্রতিনিধি: মাত্র কয়েক বছর আগে যার ভরন পোষন করতে বাবা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সময়ের ব্যবধানে তিনি আজ কোটিপতি মেম্বার বনে গেছেন। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দূর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ ফরাজীর সম্পদের হিসেবে দেখলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসীরা।

এত অল্প সময়ে তিনি কিভাবে প্রচুর সম্পদের মালিক বনে গেছেন এই নিয়েও রয়েছে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার মঙ্গলেরগাঁও এলাকার মৃত সুরুজ মিয়া এক সময় ওই এলাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ছেলে খোরশেদ ফরাজি। তার বাবা সংসার চালাতে গিয়ে হিমসিম খেত। এই অবস্থায় ২০০৮ সালে খোরশেদ ফরাজী জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখান থেকে গত কয়েক বছর আগে এলাকায় এসে গাড়ি বহর নিয়ে বিশাল শো-ডাউন করেন এবং বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিজের ছবি লাগিয়ে ফেষ্টুন ব্যনার লাগিয়ে অতি অল্প সময়ে আলোচনায় চলে আসেন।

পরবর্তীতে ওই এলাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট কিনে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্র্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্চিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী করে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজক্ত কায়েম করেন। চাউর রয়েছে মঙ্গলেরগাঁও বটতলা এলাকায় বিলাশ বহুল অফিস রয়েছে তার। এখানে বসেই তিনি তার সকল অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মঙ্গলেরগাঁ এলাকার এক বাসিন্দা জানান, মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর খোরশেদ ফরাজী ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মানুষের জমি জমা দখল,লুটপাট, চাঁদাবাজি যেন তার নিত্য দিনের পেশায় রুপ নিয়েছে। তার অত্যাচারে ওই এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

সোবহান মিয়া নামে এক বাসিন্দা জানান, মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর খোরশেদ ফরাজি বিচার সালিশে ঘুষ নেওয়া, ওয়ারিশ সনদ নিতে টাকা আদায়, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পুলিশ প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় আদিপত্য বিস্তার করতে থাকে অথচ তার বাবা মাছ বিক্রি করতেন। এক সময় তার ঘরে নূন আনতে পান্তা ফুরাতো সময়ের পালাক্রমে আজ খোরশেদ ফরাজি কোটিপতি হয়ে গেছে।

ফাতেমা আক্তার নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বিদেশে গিয়ে খোরশেদ ফরাজি কি করেছে। কয় টাকাই তিনি কামিয়েছেন। আর দেশে এসে ই্উপি সদস্য হয়ে এলাকায় লুটপাট করে কাড়ি কাড়ি টাকা লুটে নিয়েছেন। দূর্নীতি দমন কমিশন দূদক অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে খোরশেদ ফরাজির আসল রুপ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, খোরশেদ ফরাজির মতো মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যবস্থা না নিলে ওরা আরো ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খোরশেদ ফরাজি জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্চিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম জানান, খোরশেদ ফরাজি ইউনিয়ন পরিষদের একজন নির্বাচিত সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুইয়া জানান, ইউপি সদস্য খোরশেদ ফরাজি আওয়ামীলীগের কেউ না। তিনি আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, ইউপি সদস্য খোরশেদ ফরাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীরা থানায় একাধিক অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর